রাজশাহীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জনসভায় যোগ দেওয়ার প্রস্তুতিকালে দলটির নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে জেলার তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের গাল্লা স্কুলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহীদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত জামায়াত কর্মীর নাম মাসিকুল ইসলাম (২৩) ও তার পিতা মফিজ উদ্দিন। গাল্লা স্কুলপাড়া গ্রামে তাদের বাসা।
মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে এমপি প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন মাসিকুল ইসলাম ও তার পিতা মফিজ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে গোদাগাড়ীতে জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারণার জনসভাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাস্তার পার্শ্বে উপস্থিত হন মাসিকুল ইসলাম। এসময় একই গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক হাতেম আলী, কর্মীসমর্থক সাফিউল ইসলাম (৩৫) ও মোহাম্মাদ লিটন (৩০) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাতে নিষেধ করে তাদের ঘিরে ধরে।
জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে মাসিকুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত হন। এ সময় খবর পেয়ে মাসিকুলের পিতা ও মা উদ্ধার করতে গেলে তাদেরকেও কোদালের হাতল ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এ সময় গ্রামবাসী আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।
এদিকে, খবর পেয়ে আহতদের খোঁজখবর নিতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ড. ওবায়দুল্লাহ্, তানোর উপজেলা জামায়তের আমির মাওলানা মো. আলমগীর হোসেন, সেক্রেটারী ডিএম আক্কাছ আলীসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
পরে আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর সমবেদনা জানিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস প্রদান করেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক ও জেলা সেক্রেটারি মোঃ গোলাম মুর্তজা।
নেতৃবৃন্দ ঘটনায় জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেফতার রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এ ব্যাপারে তানোর থানার ওসি মোহাম্মাদ শহীদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
