বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করে যাব। আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। যতদিন ইনসাফ ভিক্তিক একটা সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হবে, সমাজ থেকে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজী দুর হবে, মানুষ তার অধিকার যথাযথভাবে ফিরে না পাবে, ততদিন আমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। আমরা এক মুহুর্তও বসে থাকবোনা, প্রয়োজনে আরো ত্যাগ শিকার করবো।
জামায়াতের আমীর বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের নিকট এমন কী দাবি ছিলো আমাদের সোনার টুকরা ছেলেগুলোর যে কারণে তাদের বিভন্ন বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে পাখির মতো গুলি করে তাদের জীবন কেড়ে নিলো। শুধু ছেলেদেরই নয় মেয়েদেরও পিটালো জীবন কেড়ে নিলো!। এখনো অনেক লাশ গুম করে রাখা হয়েছে, পরিবারগুলো কেঁদে মরছে সন্তানের লাশের আশায়। লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, ট্রাক থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে, নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে আমাদেও সন্তানদের।
তিনি আরো বলেন, যারা রক্ত দিয়ে আমাদের স্বাধীন করে গেছে বাংলাদেশের মানুষ তাদের কাছে ঋণী। শহীদদের আমরা কোন দলের বানাতে চাইনা, তারা জাতির সোনালী সন্তান। বাংলাদেশের মানুষ জুলাইয়ে গোলামী থেকে মুক্তি পেয়েছে। যে জাতি রক্ত দিতে পারে, নারী শিশু বৃদ্ধ সবায় অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে নামতে পারে, রক্ত দিতে পারে সে জাতি কখনই পরাজতি হতে পারেনা। যেখানে চাঁদাবাজী হয়, দখল করে সেখানে শহীদদের মর্যদা দেয়া হয়না তাঁদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ, মুসলমানের দেশ তার মানে এই নয় মুসলমান ছাড়া কেউ শান্তিতে থাকতে পারবেনা, বরং ইসলাম থাকলে সবাই শান্তিতে থাকবে।
আজ দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজশাহী জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত এ কর্মী সম্মেলনে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ড. কেরামত আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও রাজশাহাী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. সাহাবুদ্দিন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম. কেন্দ্রী কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, পাবনা জেলা আমীর আবু তালেব মন্ডল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আমীর আবু জার গিফারি, নাটোর জেলা আমীর ড. মীর নূরুল ইসলাম. নওগাঁ জেলা আমীর খন্দকার মো. আব্দুর রাকীব, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস রাজশাহী মহানগর সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ আবুল বাশার, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রাজশাহীর আহ্বায়ক মাওলানা হাবিবুর রহমান কাসেমী।
কর্মী সম্মেলনের শুভ উদ্ধোধন করেন জুলাই বিপ্লবের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ সাকিব আনজুমের গর্বিত পিতা মাইনুল হক।
সভাটি পরিচালনা করেন, মহানগর জামায়াতে সেক্রেটারী ইমাজ উদ্দীন মন্ডল ও জেলা সেক্রেটারী গোলাম মুর্তজার উপস্থানায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান অরো বলেন, আমাদের সন্তানরা এখনো শ্লোগান দিচ্ছেন আবু সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ। এই লড়াই চলবে ইনশাআল্লাহ। কতক্ষণ? যতক্ষণ না ইনসাফ এই জমিনে কায়েম না হয়। আর ইনসাফ কায়েমের গ্যারান্টি একমাত্র আল কুরআন দিতে পারে, আর কিছুই দিতে পারে না। এই কুরআনের শাসন সকল ধর্মের, সকল দলের সকল বর্ণের মানুষের জন্য একমাত্র ইজ্জতের গ্যারান্টি। এই কুরআনের শাসন কায়েমের মধ্য দিয়ে একটা মানবিক বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই, দুর্নীতি এবং দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। অন্য ধর্মের ভাইদেরকে আমরা ভাই হিসেবে দেখি। আমরা মানুষকে ঘৃণা করি না, হিংসা করি না। আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করি। মানুষের দু:খে কষ্টে চেষ্টা করি সাড়া দেওয়ার, এবং এটাও চেষ্টা করি সবার আগে সাড়া দেওয়ার।
১৫ বছর পর রাজশাহীতে জেলা ও মহানগরীর যৌথ আয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আজ সকাল ৯টায় জেলা ও মহানগরী জামায়াতের আয়োজনে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এই সম্মেলন শুরু হয়। মাদরাসা মাঠে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। কানায় কানায় পূর্ণ হয় ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠ। এছাড়া সিপাইপাড়া, ফায়ার সার্ভিস মোড়, ঘোষপাড়া, সিএন্ডবি মোড় মনিচত্বর ও লক্ষিপুরসহ কয়েক কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে।
শনিবার ভোর থেকেই পবা, মোহনপুর, তানোর, গোদাগাড়ী, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাঘা, চারঘাট ও বাগমারা উপজেলা থেকে কর্মী সম্মেলনে দলটির নেতাকর্মীরা যোগ দেন। এছাড়া মহানগরীর ১২ থানা এবং ৩০টি ওয়ার্ড থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় প্রতিক দাঁড়িপাল্লা হাতে পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে সম্মেলনে আসেন নেতাকর্মীরা। আমির ডা. শফিকুর রহমানকে স্বাগত জানিয়ে নানা শ্লোগান দেন তারা। নগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন শৃঙ্খলা রক্ষায়।
