তাবলীগের অপরপক্ষ সাদ পন্থীদের সন্ত্রাসী ও গুন্ডা বলে আখ্যায়িত করেছেন

শুরা ই নেজাম বা বাংলাদেশের মাওলানা জোবায়ের অনুসারীরা তাবলিগ জামাতের সাদপন্থীদের গ্রেপ্তার, বিচার ও নিষিদ্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ।
নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে  শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষন শেষে তারা একই স্থানে সমাবেশে মিলিত হন।
রাজশাহী মার্কাজ মসজিদের প্রধান সুরার সদস্য মাওলানা আব্দুল মালেক, সূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ তালহা, মাওলানা ইমরান আলীসহ আলেম-ওলামারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে হামলায় সাদপন্থীরা জড়িত। হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটানো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। মামলায় গ্রেপ্তারের পর যারা জামিন পেয়েছেন, তাদের জামিন বাতিল করতে হবে। বাংলাদেশে সাদের আগমন ও তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। কাকরাইলসহ, প্রতিটি জেলার মার্কাজ মসজিদ পরিচালনায় সাদপন্থীদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।
জোবায়ের অনুসারীরা
এসব দাবি মানা না হলে আরে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুশিয়ারি দেন জোবায়ের অনুসারীরা।
একই সাথে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিৃতিতে সাদ পন্থীদের সন্ত্রাসী ও গুন্ডা বলে আখ্যায়িত করেন। তাবলীগ জামাতের প্রায় শতবর্ষব্যাপী কার্যক্রমের কারণে পাক-ভারত- বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের অনেক পথহারা মানুষ সত্য পথের দিশা পেয়েছে, অসংখ্য চোর-ডাকাত, খুনী-সন্ত্রাসী তওবা করে সঠিক পথে ফিরে এসেছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী এই তাবলীগ জামাতের কাজে যুক্ত হয়ে নিজেদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ঘটানোর প্রয়াস পেয়েছে।
দাওয়াত ও তাবলীগের শান্তিপূর্ণ ও প্রভাবশালী এই কাজ আমাদের দেশের চিরায়ত ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ধর্মীয় কাজকে ধ্বংস করার জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোষ্ঠী ও ইসলামবিরোধী শক্তি অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ করছে এদেশীয় সাদপন্থী কিছু উগ্র সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষ, যারা নিজেদেরকে দিল্লীর মাওলানা সাদ সাহেবের অনুসারী বলে পরিচয় দেয়। এই সাদপন্থী গোষ্ঠী একবার বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ১-লা ডিসেম্বর ইজতিমার ময়দান প্রস্তুত কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাশ্রম প্রদানকারী সাধারণ মুসল্লি, তাবলীগের সাথীবৃন্দ ও মাদরাসার ছাত্র- শিক্ষকদের উপর অতর্কিত বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে একজন নিরীহ মানুষকে হত্যা ও প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নির্মমভাবে আহত করে, যাদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছে।

সে ঘটনার প্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার টঙ্গী বিশ্ব ইজতিমার ময়দানে বার্ষিক একটি ইজতিমা ব্যতীত সাদপন্থীদের সকল কার্যক্রম ও জমায়েতকে নিষিদ্ধ করে দেয়। এ সূত্রে ২০১৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত টঙ্গী ইজতিমার ময়দান তাবলীগের শুরাই-নেযামের (মাওলানা যুবায়ের সাহেবের) অনুসারীদের তত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে।
এজন্য বিশ্ব শুরার অধীনস্ত বাংলাদেশের তাবলীগের সাথীরা বেশ কিছুদিন যাবত বিশ্ব ইজতিমা বাস্তবায়নের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে টঙ্গী ইজতিমা-ময়দান প্রস্তুত করার কাজ করছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং তারিখ দিবাগত রাতে যখন সহস্রাধিক সাথী সারাদিন ইজতিমার মাঠ প্রস্তুত করার কাজ সম্পন্ন করে মাঠে ঘুমাচ্ছিল, কিছু সাথী যিকির ও এবাদতে মগ্ন ছিল। এমতাবস্থায় মধ্যরাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাদপন্থী সন্ত্রাসীরা সারা বাংলাদেশ থেকে তাদের সন্ত্রাসীদের টঙ্গীর ময়দানে জমায়েত করে রাতের আঁধারে নিরীহ নিরস্ত্র মুসল্লি ও আলেম-ওলামার উপর হামলা করে। এই বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে সাদপন্থীরা চারজন সাথীকে শহীদ ও অসংখ্য মানুষকে আহত করে, যাদের অনেকের অবস্থা অত্যন্ত আশংকাজনক।
উল্লেখ্য যে, দিল্লীর মাওলানা সাদ কান্ধলভি অনেক আগে থেকে ইসলাম ধর্ম ও শরীয়ত সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের অসার, অযৌক্তিক ও অমূলক বক্তব্য প্রদান করে আসছেন। তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন।
যা সরাসরি কুরআন-হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক। কখনো কখনো তিনি অন্যান্য নবি-রাসুলসহ আমাদের প্রিয় নবিজী সা.কে নিয়েও আপত্তিকর কথা বলেছেন। এজন্য উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞ আলেমগণ মাওলানা সাদ সাহেবের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন। বিশেষতঃ উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা গত ২০২৩ সালের জুন মাসে একটি ফতোয়ায় (ফতোয়া নম্বর-১১৩৬০) স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছে, মাওলানা সাদের বয়ান শোনা, প্রচার করা এবং তার অনুসরণ করা জায়েজ নয়। দেওবন্দ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বলেছে, পথভ্রষ্ট মাওলানা সাদ সম্পর্কে এটাই তাদের সর্বশেষ অবস্থান।
সুতরাং আমাদের বক্তব্য হলো, জাতীয় ঐক্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। এদেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষই সুষ্ঠ-স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে থাকে। সুতরাং আমাদেরকে এই জাতীয় ঐক্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার জন্য সচেতন থাকতে হবে। একে বিনষ্ট করে এমন কোনো গোষ্ঠীর অপতৎপরতাকে রুখে দিতে হবে। আমাদের ছাত্র-জনতা, হাজারো আলেম- ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের রক্ত ও জীবন দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্বল করার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল ষড়যন্ত্র ও সমস্ত অপপ্রয়াস রুখে দিতে হবে। আমরা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও সম্প্রীতিপূর্ণ দেশ প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice