বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

সেমিফাইনালে মাঠে নামছে ভারত-ইংল্যান্ড

Reporter Name
  • বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
Share Now

সর্বশেষ দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন (যথাক্রমে) ইংল্যান্ড ও ভারত আবারও সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আগের দুই আসরেই তারা সেমিফাইনালে লড়েছিল। পরবর্তীতে শিরোপা উৎসব–ও করেছে দুই দলের দ্বৈরথে বিজয়ীরা। আবার ভারত-ইংল্যান্ড উভয়েই তৃতীয়বারের মতো সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মিশনে রয়েছে।

ইতোমধ্যে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম সেমিফাইনালে গতকাল (বুধবার) দক্ষিণ আফ্রিকাকে একপেশে লড়াইয়ে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এখন তারা ফাইনালের প্রতিপক্ষ পাওয়ার অপেক্ষায়। আজ (বৃহস্পতিবার) মুম্বাইয়ের ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে লড়বে ভারত ও ইংল্যান্ড।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একপেশে দাপট দেখিয়ে ভারতকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। যেখানে নির্ধারিত ২০ ওভারে আগে ব্যাট করতে নেমে রোহিত-কোহলিদের ভারত ১৬৮ রান তোলে। লক্ষ্য তাড়ায় মাত্র ১৬ ওভারেই ১০ উইকেট হাতে রেখে জিতেছে জস বাটলারের দল। এরপর ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে। ২০২৪ আসরে হারের বদলা নেয় ভারত। দুই দলের সেই সেমিফাইনালও হয়েছে একপেশে। ভারতের দেওয়া ১৭২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মাত্র ১০১ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। এরপর রোমাঞ্চকর ফাইনালে প্রোটিয়াদের হারিয়ে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।

সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের ভারত-ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ঐতিহাসিক ম্যাচে পরিণত হতে যাচ্ছে। যেখানে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সূর্যকুমার যাদবের দল স্পষ্ট ফেভারিট। একইসঙ্গে তারা স্বাগতিক দর্শকদের তুমুল সমর্থনও পাচ্ছে। চলমান আসরে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ বাদে নিজেদের ৮ ম্যাচের সাতটিতেই জিতেছে ভারত। বিপরীতে, এবারের আসরে সবচেয়ে টালমাটাল পথ পাড়ি দিয়ে সেমিতে উঠেছে ইংল্যান্ড। ইতালি-নেপালের কাছে হারতে হারতে বেঁচে যাওয়া দলটিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাদে বাকি ৭ ম্যাচে জয় পায়।

এবারের বিশ্বকাপে ভারত-ইংল্যান্ড উভয়েই তাদের স্কোয়াডের অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত ক্রিকেটারদের কাছ থেকে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স পেয়েছে। ভারতের জন্য সাম্প্রতিক উদাহরণ সঞ্জু স্যামসন। রিঙ্কু সিংয়ের পারিবারিক শোকের কারণে তিনি দ্বিতীয় সুযোগ পান। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইডেন গার্ডেন্সে তিনি ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। বিপরীতে, ২০২২ সালে শিরোপা জয়ের সময় স্যাম কারান ছিলেন টুর্নামেন্ট ও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়। তবে এক বছর আগেও দল থেকে দূরে চলে যান। তিনিই এখন আবার ফিরেছেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার হিসেবে এবং চাপের মুহূর্তে ডেথ ওভারে প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন।

এ ছাড়া হ্যারি ব্রুকও তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে এসেছেন টুর্নামেন্টের আগমুহূর্তে তুমুল ফর্মে থেকে বিশ্বকাপে ফ্লপ পরিণত হওয়া জস বাটলার ও ফিল সল্টের সুবাদে। সাত ম্যাচে তাদের ওপেনিং জুটিতে এসেছে মাত্র ৮৪ রান। সেই ঝড় সামাল দেন ব্রুক। একদিকে এটি ইংল্যান্ডের জন্য সুযোগ, কারণ এখান থেকে উন্নতির জায়গা এখনও অনেক। অন্যদিকে এটি ভারতের জন্য স্পষ্ট আক্রমণের সুযোগ। ভারতের বোলিং আক্রমণ এখন দারুণ ছন্দ এবং বৈচিত্র্যে ভরপুর। যা ইংল্যান্ডকে এমন চাপে ফেলতে পারে, যার মুখোমুখি তারা এখনও হয়নি।

সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে ভারতের প্রধান অস্ত্র অবশ্যই জাসপ্রিত বুমরাহ। তিনি প্রতিপক্ষের আশা ভেঙে দেওয়ায় বিশেষজ্ঞ’র পর্যায়ে বলা চলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২তম ওভারে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ডানহাতি এই পেসার। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড এবার ভিন্নভাবে ব্যবহার করছে জোফরা আর্চারকে। টানা পাঁচ ম্যাচে তিনি পাওয়ারপ্লেতে তিন ওভার করে বল করেছেন। যেন শুরুতেই চাপ তৈরি করে মাঝের ওভারগুলো স্পিনারদের জন্য সহজ করে দেওয়া যায়। তবে ভারতের ওপেনারদের বিপক্ষে আর্চারের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে কৌশলে দ্রুত পরিবর্তন আনতে হতে পারে!

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category