শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন

মাস্টার্স পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ রাবি সিনেট সদস্যের বিরুদ্ধে

রাবি প্রতিনিধি :
  • মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
মাস্টার্স পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ রাবি সিনেট সদস্যের বিরুদ্ধে
Share Now

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স প্রোগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল কোর্সের পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ উঠেছে।  অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম আকিল বিন তালেব। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।

আজ সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পরীক্ষাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি শনাক্ত করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনভিজিলেটর আইন বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার।

ঘটনার বর্ণনায় অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার বলেন, পরীক্ষার শেষ পর্যায়ের দিকে আকিল বিন তালেবের আচরণ তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। সে সময় তার খাতা ও প্রশ্নপত্র পরীক্ষা করা হলেও প্রাথমিকভাবে তেমন কিছু চোখে পড়েনি। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র পর্যবেক্ষণ করে তিনি একটি অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করেন।

তিনি বলেন, বিভাগ থেকে সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্রে প্রথম পৃষ্ঠার পুরোটা এবং দ্বিতীয় পৃষ্ঠার অর্ধেক অংশজুড়ে প্রশ্ন ছিল। অথচ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর প্রশ্নপত্রের দুই পৃষ্ঠাজুড়েই লেখা পাওয়া যায়। ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখা যায়, দ্বিতীয় পৃষ্ঠার পুরোটা আগেই উত্তর কম্পোজ করে লেখা ছিল।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি প্রধান ইনভিজিলেটর অধ্যাপক আব্দুল আলিম ও দায়িত্বরত শিক্ষক অধ্যাপক আনিসুর রহমানকে অবহিত করেন। প্রাথমিকভাবে প্রশ্নপত্রের ওই অংশ কেটে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার একদিন পার হলেও বিভাগীয়ভাবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে প্রধান ইনভিজিলেটর অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, নকল সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তার কাছে আসেনি। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে জানেন বলে জানান।

দায়িত্বরত শিক্ষক অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় তিনি পরীক্ষাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। নাস্তা করতে নিচে যাওয়ায় পুরো বিষয়টি তার প্রত্যক্ষভাবে জানা নেই। তবে পরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী জানান, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আকিল বিন তালেব নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েন।অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরীক্ষা শেষে শিক্ষকদের মধ্যে একটি বৈঠক হলেও সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

ওই শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার নকলের অভিযোগ উঠেছিল। অন্তত দুইবার নকল করতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন। একবার সংশ্লিষ্ট কোর্সে তাকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, বারবার ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্ত আকিল বিন তালেব এ বিষয়কে অস্বীকার করে বলেন, পরীক্ষার সময় তিনি শুধু একজন বন্ধুর সঙ্গে পাশ ফিরে কথা বলছিলেন। এ সময় অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার তাকে পরীক্ষাকক্ষে কথা না বলতে সাধারণভাবে সতর্ক করেন। গতকাল পরীক্ষাকক্ষে নকলের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইয়্যেদা আঞ্জুর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঢাকায় একটি বৈঠকে আছেন জানিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category