বিগ ব্যাশ লিগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত করল পার্থ স্কর্চার্স। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সিডনি সিক্সার্সকে তুলনামূলক একপেশে, তবে মাঝেমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ফাইনালে হারিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জিতেছে স্কর্চার্স।
অপটাস স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিল ৫৫ হাজার ১৮ জন দর্শক- পার্থে ক্রিকেট ম্যাচে যা নতুন রেকর্ড। কমলা রঙে ঢেকে যাওয়া গ্যালারির উল্লাসের মাঝেই স্কর্চার্সের পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেনি সিক্সার্স। ডেভিড পেইন, ঝাই রিচার্ডসন ও মাহলি বিয়ার্ডম্যান মিলেই নেন ৮ উইকেট। সীম-বান্ধব কন্ডিশনে সিক্সার্স থামে মাত্র ১৩২ রানে, ২০ ওভারের বিগ ব্যাশ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বনিম্ন প্রথম ইনিংস স্কোর।
স্টিভেন স্মিথের ঝড়ো ২৪ (১৩ বলে) ইনিংস কিছুটা সময়ের জন্য ম্যাচে উত্তাপ ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি। এই মৌসুমে অপটাসে কম রান ডিফেন্ড হওয়ার নজির থাকলেও ফিন অ্যালেন ও মিচেল মার্শের ৮০ রানের উদ্বোধনী জুটিই গ্যালারিতে উৎসবের শুরুটা আগেভাগেই ঘটিয়ে দেয়। স্কর্চার্স ১৮তম ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় এবং ফাইনালে সিক্সার্সের বিপক্ষে চতুর্থবারের মতো জয়ের আনন্দে মাতে।
ম্যাচ শুরুর আগে হালকা বৃষ্টিতে পাঁচ মিনিট দেরি হলেও দর্শকদের উত্তেজনায় কোনো ঘাটতি ছিল না। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা সিক্সার্সের শুরু থেকেই লক্ষ্যবস্তু ছিলেন স্টিভেন স্মিথ। প্রি-ম্যাচ পরিচয় পর্ব থেকে শুরু করে তার প্রথম বল মোকাবিলার আগ মুহূর্ত- সবখানেই দুয়োধ্বনিতে কাঁপে স্টেডিয়াম।
ওপেনার ড্যানিয়েল হিউজ চাপ সামলাতে না পেরে ঝাই রিচার্ডসনের বলে বিদায় নেন। এরপর স্মিথ বনাম স্কর্চার্স পেসারদের লড়াই মুহূর্তের জন্য ম্যাচে প্রাণ ফেরায়। বিয়ার্ডম্যান ও রিচার্ডসনের ওপর স্মিথের আক্রমণাত্মক শট অপটাসের গর্জন স্তব্ধ করে দেয় যা প্রায় অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। পাওয়ারপ্লে শেষে সিক্সার্সের রান ৩১/১, এর মধ্যে স্মিথেরই ২৩। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে অ্যারন হার্ডির বলে এলবিডব্লিউ আপিল প্রথমে নাকচ হলেও রিভিউতে সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়। স্মিথের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ফের বিস্ফোরণে ফেটে পড়ে গ্যালারি।
গতির জন্য পরিচিত স্কর্চার্স আক্রমণে সেদিন সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন ধীরগতির বাঁহাতি পেসার ডেভিড পেইন। তার স্লোয়ারগুলোতে বিভ্রান্ত হয়ে একে একে উইকেট হারান জশ ফিলিপ, মইজেস হেনরিকেস ও ল্যাকলান শ। পাওয়ার সার্জে টানা তৃতীয় ম্যাচে তিন উইকেট নেয় স্কর্চার্স। এক পর্যায়ে জোয়েল ডেভিসের ক্যাচ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও তাতে ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি। সিক্সার্স গুটিয়ে যায় হতাশাজনক স্কোরে।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর সম্ভবত শেষ বড় ম্যাচে মিচেল স্টার্ক চেষ্টা করেছিলেন সবটুকু উজাড় করে দিতে। ঘণ্টায় ১৪৭ কিলোমিটার গতির বলও ছুড়েছেন। কিন্তু ফিন অ্যালেনের আগ্রাসনের সামনে তা যথেষ্ট ছিল না। বৃষ্টির মধ্যেও খেলা চালু রাখায় সিক্সার্স শিবিরে বাড়ে বিরক্তি। পাঁচ ওভার শেষে সাময়িক বিরতি এলেও ততক্ষণে ম্যাচ কার্যত স্কর্চার্সের মুঠোয়।
লক্ষ্য তাড়ায় কোনো নাটকীয়তা রাখেনি স্কর্চার্স। মার্শ প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে বার্তা দেন। অ্যালেন ২২ বলে ৩৬ রান করে পুরো টুর্নামেন্টে ৪৬৬ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে শেষ করেন- স্ট্রাইক রেট ১৮৪। শেষ দিকে কয়েকটি উইকেট পড়লেও জশ ইংলিসের লং-অফের ওপর ছক্কায় অপটাস স্টেডিয়াম ফের গর্জে ওঠে। ষষ্ঠ শিরোপা জিতে স্কর্চার্স প্রমাণ করে দেয়—বিগ ব্যাশে তারাই এখনো অপ্রতিরোধ্য শক্তি।