চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে বিএনপি নেতার হাতে পুলিশের এক কনস্টেবল মারধরের শিকার হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার খয়রাবাদ এলাকায় রায়হান ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রায়হান ওই কনস্টেবলকে মারধর করেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। রায়হান গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেনের ছোট ছেলে। ঘটনাস্থলে রায়হান ফিলিং স্টেশনের সত্ত্বাধিকারী আশরাফ হোসেন। অন্যদিকে, মারধর শিকার কনস্টেবল শওকত হোসেন জেলার নাচোল থানায় কর্মরত।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, নাচোল থানার একটি গাড়ির জন্য জ্বালানি তেল নিতে রায়হান ফিলিং স্টেশনে যান কনস্টেবল শওকত হোসেন। পাম্প কর্মীদের কাছে নির্ধারিত স্লিপ জমা দিয়ে তিনি সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় রাইহান এসে তাকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু কনেস্টবল শওকত নিজের পরিচয় দিয়ে রায়হানকে বলেন তেল দিতে। এক পর্যায়ে রায়হান রাগন্বিত হয়ে শওকতের গালে একটি থাপ্পড় মারেন। পরে লাঠি দিয়েও মারধর করা হয়।
ওসি আরও বলেন, শওকতের গাল ও শরীরে আঘাতজনিত কালশিটে দাগ রয়েছে। রাইহান ছাড়াও মারধরের এই ঘটনায় সেখানকার লোকজনরাও জড়িত ছিল। মারধরের শিকার কনস্টেবলকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরে আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল রায়হান ও তার বাবা আশরাফ হোসনকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারধরের ঘটনার পরপরই পেট্রোল পাম্প ত্যাগ করেন বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল রাইহান।