রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নে এক খাদ্যবান্ধব ডিলারের কাছে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ডিলার নিজের ও সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।ভুক্তভোগী মোঃ ওয়াহেদ আলী জানান, তিনি বেলপুকুর ইউনিয়নের একজন খাদ্যবান্ধব ডিলার এবং তার বিক্রয়কেন্দ্র বাশপুকুর বাজারে অবস্থিত। এপ্রিল ২০২৬ মাসের বরাদ্দকৃত চাল গত ২৬ এপ্রিল তার বিক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছায়। পরদিন ২৭ এপ্রিল সকালে তিনি যথারীতি চাল বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করেন
তিনি অভিযোগ করেন, বিক্রয় শুরু করার কিছুক্ষণ পর বাশপুকুর গ্রামের তিন ব্যক্তি তার কাছে এসে সরাসরি চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে চাল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেন তারা। অভিযুক্তরা হলেন—মোঃ লিটন , মোঃ মোস্তাকিন ও মোঃ আশরাফুলভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা জানান যে, জিয়া (পিতা: হযরত শাহ) নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে তারা চাঁদা তুলতে এসেছেন। এ সময় তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তিনি থানায় ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা পুনরায় হুমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ডিলার।অভিযুক্তদের মধ্যে মোঃ লিটন নিজেকে পুঠিয়া উপজেলা ‘জিয়া মঞ্চ’-এর সদস্য সচিব, মোঃ আশরাফুল ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মোঃ মোস্তাকিন একই ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মোঃ ওয়াহেদ আলী, যিনি স্থানীয়ভাবে ওয়ায়েদ মেম্বার নামে পরিচিত এবং বেলপুকুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য, বলেন—“আমি বর্তমানে আমার বিক্রয়কেন্দ্র, মজুত চাল এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।”এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিক্রয়কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।