বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন

কেন্দ্রীয় কমিটিতে কি এবার মূল্যায়ন পাবে রাবি ছাত্রদল?

রাবি প্রতিনিধি :
  • মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
কেন্দ্রীয় কমিটিতে কি এবার মূল্যায়ন পাবে রাবি ছাত্রদল?
Share Now

দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব তৈরির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বের প্রশ্নে আবারও আলোচনায় এসেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবিসহ বিভিন্ন কারণে সমালোচনার মুখে রয়েছে ছাত্রদল। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদও। নতুন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পদপ্রত্যাশীরা তদবির শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ; যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
নতুন কমিটিকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে এবার কি যথাযথ মূল্যায়ন পাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা, নাকি তারা আবারও পদবঞ্চিত হবেন? রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাবি শাখার অবদান, ত্যাগ ও নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অতীতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রাবির উপস্থিতি:
অতীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম রাকসুর সাবেক ভিপি রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি করে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির মূল রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রদলের ইতিহাসে রিজভীর নেতৃত্ব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছিল।

জাতীয় রাজনীতিতেও রাবির সাবেক ছাত্ররা:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা বেশ কয়েকজন নেতা পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাবি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৮–৯ জন নেতা বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বর্তমানে সংসদ সদস্য হয়েছেন। ফলে অনেকের মতে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররাজনীতি জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

অন্যান্য ছাত্রসংগঠনে প্রতিনিধিত্ব:
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। অতীতে এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাবি শাখার একাধিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল বলে জানা গেছে।

নির্যাতনের অভিযোগ ও ত্যাগের ইতিহাস:
রাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন। এ সময়ে বহু নেতাকর্মী মামলা, গ্রেপ্তার, বহিষ্কার ও হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এত ত্যাগ ও সাংগঠনিক সক্রিয়তার পরও কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাবি ছাত্রদলের নেতারা যথাযথ মূল্যায়ন পাননি।

রাবি থেকে আলোচনা যারা:
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পদ পেতে আলোচনায় রয়েছেন রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল হক, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল নেতা বলেন, “ছাত্রসংগঠনে নেতৃত্বের সুযোগ পাওয়া রাজনীতির বড় প্রেরণা। কিন্তু বারবার উপেক্ষিত হলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “স্বৈরাচার সরকার পতন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনের দায়িত্ব আমাদের ওপর ছিল, যা আমরা পালন করেছি। আমরা দল করি, তাই দলের সিদ্ধান্তই আমাদের কাছে চূড়ান্ত। রাকসু নির্বাচনে গোপন ব্যালটে আমি ভিপি পদপ্রার্থী নির্বাচিত হলেও নির্বাচন সফল করতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছি। আমাদের ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ত্যাগ অবশ্যই বিএনপি মূল্যায়ন করবে বলে আশা করি।”

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা যদি প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত থাকে, তাহলে সংগঠনের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। রাবি শাখার অবদান ও ত্যাগ বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব বাড়লে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছাত্ররাজনীতির আগ্রহ বাড়বে।”

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাবি ছাত্রদল থেকে মূল্যায়ন করা হবে কিনা–এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category