ইভটিজিং ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে রাবিতে দুই বিভাগের হাতাহাতি

প্রতিবেদক: রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ও অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ, ছবি তোলা এবং ভুল শিক্ষাবর্ষের পরিচয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও দুই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জানা যায়, সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের সামনে ইইই বিভাগের সিনিয়ররা জুনিয়রদের নিয়ে বসেছিলেন। পাশেই আড্ডা দিচ্ছিলেন অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে সহকারী প্রক্টর এসে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। পরে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির এক শিক্ষার্থী তাদের ছবি তুলে প্রক্টরকে খবর দিয়েছেন। এ নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একই সময়ে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, ইইই বিভাগের এক শিক্ষার্থী তার ভিডিও ধারণ করেছেন। পরে দুই বিভাগের সিনিয়ররা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।

ঘটনার জের ধরে আজ মঙ্গলবার ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল জাবিদকে ডাকেন। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে সমঝোতা হয়। তবে পরে পরিবহন মার্কেটে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুস্মিতা রানী সরকারকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ ওঠে ইইই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই বিভাগের সিনিয়ররা ঘটনাস্থলে গেলে প্রক্টর ও রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার উপস্থিত হন। পরিস্থিতি শান্ত করে সবাইকে সরিয়ে দেওয়ার সময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল জাবিদ বলেন, “ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত রাত থেকেই আমার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছিল। পরে দেখা করতে গেলে আমি স্বীকার করি, আগের দিন নিজের সেশন ২২-২৩ বলেছিলাম। কারণ, আমি মনে করেছিলাম এতে পরিস্থিতি শান্ত থাকবে। পরে বিষয়টি নিয়ে আবারও আমাকে জেরা করা হয়। সেখানে তারা একজন সিনিয়রও নিয়ে আসে। পরে আমার বিভাগের এক সিনিয়র এসে বিষয়টি মীমাংসা করেন এবং আমি ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করি।”

তিনি আরও বলেন, “পরে পরিবহন এলাকায় আমাদের সহপাঠী সুস্মিতা রানী সরকারকে উদ্দেশ্য করে ইইই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করেন। বিষয়টি তাদের সিনিয়রদের জানানো হলেও তারা গুরুত্ব দেননি। উল্টো আমাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।”

অন্যদিকে ইইই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জায়িফ হাসান বলেন, “ডিনস কমপ্লেক্সে আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম। এ সময় অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির এক শিক্ষার্থী আমাদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে প্রক্টরকে খবর দেন। পরে প্রক্টর এসে আমাদের সরিয়ে দেন। পরদিন প্রক্টর স্বীকারও করেন যে আগের দিনের ঘটনা র‌্যাগিং ছিল না।”

তিনি বলেন, “পরে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে ‘রাবি ৭০’ ব্যাচের পরিচয় দেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পরে দুই বিভাগের সিনিয়ররা এসে বিষয়টি মীমাংসা করেন। তবে পরিবহন এলাকায় আবারও কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “গতকাল থেকে চলা ঘটনার জেরে আজ পরিবহন মার্কেটে আবারও মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রক্টরিয়াল টিম সেখানে যায়। পরে সবাইকে বুঝিয়ে সরিয়ে নেওয়ার সময় তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই বিভাগের সভাপতিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত বসবেন।”

তিনি আরও বলেন, “যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice