এসএসসি পরীক্ষার খাতা না দেখানোকে কেন্দ্র মিরসরাইয়ে দুই সহপাঠীকে ক্ষুর দিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে জোরাগঞ্জ থানা পুলিশ। রোববার (১৭ মে) রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম।
তিনি বলেন, আহত শাখাওয়াত হোসেন জিহানের বাবা মো. আলমগীর রোববার রাতে বাদী হয়ে থানায় মামলা নং-১৭ দায়ের করেন। মামলায় এজাহারনামীয় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আটকরা হলো, করেরহাট ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ছত্তরুয়া গ্রামের সালামত উল্যাহর ছেলে সাজিদ হোসেন রাফি (১৭), একই ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের ছেলে নওশীন ইসলাম রামীম (১৭), মো. আলমের ছেলে মোশারফ হোসেন (১৭) ও হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সুফলা গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে মুক্তাদুল ইসলাম মাহিদ (১৭)। তারা উপজেলার করেরহাট কামেনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন বারইয়ারহাট পৌর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন জিহান এবং মুনায়েমকে উত্তরপত্র দেখানোর অনুরোধ করেন একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন পরীক্ষার্থী।
এ সময় উত্তরপত্র না দোখানোয় পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই স্কুলের ১০/১২ জন পরীক্ষার্থী জিহান এবং মুনায়েমের উপর হামলা করে এবং ক্ষুর দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে অন্য সহপাঠীরা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় রোববার রাতে আহত জিহানের বাবা আলমগীর জোরারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
আহত শাখাওয়াত হোসেন জিহান বলেন, রোববার আমাদের বিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষ করে হল থেকে বেরিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর আমার বন্ধু মুনায়েমকে মারতে থাকে। আমি বাঁচাতে গেলে আমাকেও কোপাতে থাকে। তবে কেন হামলা করেছে আমি নিজেও বুঝছি না।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, রোববার এসএসসি পরীক্ষার হলে খাতা না দেখানোকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা শেষে দুই পরীক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ৪ কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের আটকের অভিযান চলছে।
