তরুণ গবেষক-উদ্যোক্তাদের নিয়ে ইবিতে ‘ফিউচার হার্ভেস্ট সামিট’

প্রতিবেদক: ইবি প্রতিনিধি:

কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে টেকসই কৃষির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Future Harvest Summit 2026’। দিনব্যাপী এ আয়োজনে কৃষির সম্ভাবনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন শিক্ষক, গবেষক ও উদ্যোক্তারা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ‘Connecting Research, Innovation & The Future of Sustainable Farming’ প্রতিপাদ্যে সামিটটি অনুষ্ঠিত হয়। ‘Qamarun Agro Farm’ ও ‘IAAS Bangladesh IU’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষক, শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও তরুণ গবেষকরা অংশ নেন।

আয়োজনে কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, গবেষণা পোস্টার উপস্থাপন, ব্যবসায়িক ধারণাভিত্তিক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ও প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সামিটের বিকেলের অধিবেশনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা গবেষণা পোস্টার উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্টের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছাঃ মিনারা খাতুন, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ইকোনমিকস বিভাগের প্রধান ড. মো. সামিউল ইসলাম, কুয়াজি কনসালট্যান্টসের প্রফেসর এস. এম. আরিফুজ্জামান। এছাড়াও কি-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিত্র মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জুয়েল রানা।

অধ্যাপক ড. মোছাঃ মিনারা খাতুন বলেন, “কৃষির সূচনা হয়েছিল নারীদের হাত ধরে। বর্তমানে নারীরা কৃষিতে নেতৃত্ব ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। উদ্যোক্তা হতে হলে ঝুঁকি নেওয়ার পাশাপাশি মেধা, শ্রম ও পুঁজি কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও পুরুষদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেইরি, ছাগল পালন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো ছোট উদ্যোগ থেকেও বড় ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য অর্থ, বাজারে প্রবেশাধিকার, আধুনিক প্রযুক্তি, মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাস এই পাঁচটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু ডিগ্রিধারী নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।”

প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫ শতাংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে সেবা খাতে ৩৭ শতাংশ এবং শিল্প খাতে ১৭ শতাংশ শ্রমশক্তি নিয়োজিত। কৃষিতে বিপুল শ্রমশক্তি থাকলেও দেশের জিডিপিতে পোশাকশিল্পের অবদান তুলনামূলকভাবে বেশি। দেশের প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে ১৪ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি। শ্রমশক্তিতে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষ। এছাড়া প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি ৭৬টি দেশে কর্মরত রয়েছেন, যারা দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।”

চিত্র মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জুয়েল রানা বলেন, “জীবনে অনেক মানুষ আসবে, আবার চলে যাবে। সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে, স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু কোনো কিছু হারিয়ে গেলে জীবন থেমে থাকে না। তাই সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। প্রত্যাশা কমিয়ে নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ২০ পৃষ্ঠা বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের জীবনের শুধু ভালো দিকগুলোই দেখা যায়; পুরো বাস্তবতা সেখানে থাকে না। তাই অন্যের সঙ্গে নিজের জীবন তুলনা না করে বৃষ্টি, পূর্ণিমা, বই ও প্রিয়জনদের সঙ্গে জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত উপভোগ করতে হবে। জীবনের নিয়ন্ত্রণ কোনো একজন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না; বাবা-মা ও পরিবারের গুরুত্বও মনে রাখতে হবে। কঠিন সময় আসবে, কিন্তু তা পার হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice