রাজশাহীতে ছাত্রত্ব বাঁচাতে তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) শিক্ষার্থীরা। ক্যারিঅনপদ্ধতি চালু, ইয়ারড্রপ. এবং ছাত্রত্ব বাতিলরোধের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধন করে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার সময় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এলাকায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি এবং বিএসসি ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ল্যাবরেটরি) বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধনের অয়োজন করে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন ,রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) কর্তৃপক্ষের উদাসিনতা আমাদের ছাত্রত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে রামেবি’র অর্ডিন্যান্স পরিবর্তন করে শিক্ষার্থী বান্ধব অর্ডিন্যান্স পাশ করার জোর দাবি জানান। তাদের অভিযোগ প্রথম বর্ষে ১০টি বিষয় কোন শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে কোন কারণে অকৃতকার্য হলে তাকে দ্বিতীয় বর্ষে ক্লস করতে দেয়া হয়না, ফলে একজন সিনিয়র শিক্ষার্থীকে জুনিয়রদের সাথে ক্লাস করতে হয় যা রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাথে বৈষম্য ও একজন শিক্ষার্থী হিসেবে কস্টদায়ক। অরো অভিযোগ করে বলেন, যে মানের শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করার কথা সে মানের শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস নেয়া হয় একেবারেই কম। এবং আইএইচটির শিক্ষকদিয়েই বেশিরভাগ ক্লাস নেয়া হয়। তৃতীয় বার পাশ করতে না পারলে বা শতকরা ৫০ভাগ মার্কস না পেলে ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যায়, তাদের দাবি যেহেতু একজন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ৮বছর মেয়াদ সেহেতু পাশ করার জন্য সম্পূন্ন মেয়াদ দিতে হবে। যদি কোন কারনে একজন শিক্ষার্থী ১মাস অনুপস্থিত থাকে তাহলেও তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যাবে, এসব কঠিন নিয়ম কানুন বাতিল করে সহজ করার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
তারা আরো জানায়, ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি কোর্সে ৩০জন শিক্ষার্থীর ভর্তি হয় সেখানে কঠিন নিয়ম কানুনের ফাঁদে এখন মাত্র ১১জন শিক্ষার্থী এবং বিএসসি ইন মেডিকেল টেকনোলজিতে ১৯জন শিক্ষার্থীরা অছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
বিএসসি-ইন-ফিজিওথেরাপি এবং বিএসসি-ইন-মেডিকেল-টেকনোলজি (ল্যাবরেটরি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধনে মামুনুর রশিদ মেজবাহ ও মেহেদী হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বক্তব্য রাখেন। তারা দাবি করে বলেন, অনেকের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় ছিটকে পড়ছেন কোর্স থেকে। এছাড়া অতিথি শিক্ষকের ক্লাস দেয়ার নামে তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়। কিন্তু ঠিকমতো ক্লাস দেয়া হয় না। উল্টো ফেল করানো হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা এসময় বলেন, তাদের এ যৌক্তিক দাবিগুলো মানা না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
এদিকে রামেবি শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনসহ বিভিন্ন ব্যাপারে অনেক আগেই বিশেষ রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়। । সেই রোডম্যাপ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসহ কোর্সের যাবতীয় বিষয় পরিচালিত হচ্ছে। একের পর এক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে চমক দেখাচ্ছে রামেবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর। সর্বশেষ শনিবার প্রকাশ করা হয় এমবিবিএসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফলাফল। তবে শিক্ষার্থীদের এদিনের দাবিগুলো আমলে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রামেবির কর্মকর্তারা। নিয়ম মেনেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা না বুঝেই এমনটা করছেন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. ফারহানা হক। তিনি বলেন, ‘ওরা (শিক্ষার্থীরা) অনেককিছু বোঝে না। ক্যারিঅন সিস্টেম চালু আছে। চার বছরের কোর্স, ৮ বছর পর্যন্ত ওদের টাইম দেয়া আছে। এরমধ্যেও যদি পাশ না করে, আরও যদি মেয়াদ বেশি চায়, আর কবে পাশ করবে? কখন কম্পিটিশনে দাঁড়াবে? চাকরির বয়সও তো চলে যাবে।’
ডা. ফারহানা হক বলেন, ‘ওরা পরীক্ষা দেবে না সেজন্য মানববন্ধন বা এগুলা করছে। স্টুডেন্টরা যেটা করছে এটাতে নিজেদের ক্ষতি করছে। ওদের উচিত হচ্ছে পরীক্ষাটা দেয়া এবং মাস ছয়েক ওয়েট করা। কারণ বিষয়টা একাডেমিক কাউন্সিলে যাবে, সেখান থেকে সিন্ডিকেটে যাবে, সিন্ডিকেট থেকে অ্যাপ্রুভ হওয়ার জন্য মিনিস্ট্রি থেকে অ্যাপ্রুভাল লাগবে।’
অধ্যক্ষ বলেন, ‘এটুকু বোঝার লেভেল যদি ওদের না থাকে তাহলে কেন বিএসসি করতে এসেছে আমি জানি না। আমরা তাদের বারবার বলেছি, তোমরা পরীক্ষা দাও। কারণ একটা অর্ডিন্যান্স চেঞ্জ করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ওরা যৌক্তিক কোনো কথা শুনতেই চায় না। না শুনলে নিজেরা সাফার করবে।’
এদিন মানববন্ধনে রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ সভাপতি সাইদুর রহমান এবং স্মৃতি পরিষদের সহ: সভাপতি সালাউদ্দিন মিন্টু বক্তব্য রাখেন। শিক্ষাব্যবস্থায় সব জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।
