রাজশাহী–১ (গোদাগাড়ী–তানোর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেছেন, আমরা আগেই সরকারকে হুঁশিয়ার করতে চাই, জনগণের দাবি মেনে নেন গণতন্ত্রকে মেনে নেন, গণভোটের মর্যাদা দেন, গণভোটের শপথ আপনারা নেন, বিরোধী দল শপথ নিল, আপনারা কেন শপথ নিলেন না? এত ভয় করেন কেন জনগণকে? জনগণের ভোটে যারা শপথ নিতে পারে না তারা তো জনগণকে ভয় করে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আইহাই রাহি এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দুটি ভোট আপনারা দিয়েছিলেন। একটি ভোটে এমপি নির্বাচন আরেকটি গণভোট। আমরা বলেছিলাম, গোলামি না আজাদি? আজাদি। হা ভোট হচ্ছে আজাদি, গোলামি হচ্ছে না ভোট। আজাদি ভোট লাভ করেছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি আনুমানিক বলছি। আর যেটা না ভোট মানে গোলামি থাকতে চায় সেটা সোয়া দুই কোটি। মানে হা প্রায় ডাবল। সোয়া দুই কোটির ভোটে এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছে, কিন্তু সাড়ে ৪ কোটি ভোটার যে ভোট দিয়েছে সেই শপথ তারা নেইনি। তাহলে জনগণের ভোটের সাথে গাদ্দারি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিল, তারা যে দাম দিল না, সরকারের মর্যাদা বেড়েছে না কমেছে? এটা আরও কমবে যদি এটা তারা না করে। এজন্য আমরা বলছি, যত দ্রত গণভোটে যা করা হয়েছে বলা হয়েছে, এটা মেনে নিন এবং এটাকে বাস্তবে কাজ করার জন্য এগিয়ে আসেন। এটা আমাদের দাবি।
সরকারের সমালোচনা করে এ জামায়াত নেতা বলেন, গণতন্ত্র অনুযায়ী সব চলবে, কিন্তু আপনারা দেখেছেন ভোট বাদ দিয়ে এখন প্রশাসক নিয়োগ করছে। দলের লোককে দিয়ে এটা চালাচ্ছে। এটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি না স্বৈরাচারি পদ্ধতি? এই স্বৈরাচারি পদ্ধতি কি আপনারা মানেন? তাহলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে না হবে না? সয় আসছে আপনাদেরকে মাঠে আবার দাবি আদায়ের জন্য সোচ্চার হতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষ কোনো জিনিসই আন্দোলন ছাড়া আদায় করতে পারে না। এমনি এমনি আদায় হয়? শেখ হাসিনা পালিয়েছে এমনি এমনি পালিয়েছে? আন্দোলন করেই তাকে বিতাড়িত করা হয়েছে। সেজন্য আন্দোলন করতে হবে চাইতে হবে বলতে হবে, জনমত তৈরি করতে হবে। যারা জনগণের ভোটের মূল্য দিচ্ছে না বিশেষ করে গণভোটের, সরকারি দলকে অনুরোধ করব, আপনাদের সময় আছে, আপনারা আমাদের আলোচনা আমাদের যুক্তি শুনেন এবং জনগণের দাবি মেনে নেন। গণভোটে যা চাওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করেন। দেশটা ভালভাবে চলবে। আমরা শুধু শুধু আন্দোলনের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে চাই না। আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান হোক এটাই চাই। তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, এলাকার উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মতবিনিময় সভায় তিনি জনগণের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
সভায় স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনকল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।