চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী ড. মু. মিজানুর রহমান তার নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘সমৃদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কর্মমুখী জনপদ’ গড়ার অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি এই ইশতেহার পাঠ করেন।
ইশতেহারে ড. মিজানুর রহমান বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাকে নিরাপদ ও উন্নত বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারী ও মাদক নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় সব শ্রেণি-পেশা ও রাজনৈতিক মতের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, ঘুষমুক্ত চাকরি ব্যবস্থা চালু করা হবে। সরকারি অফিসগুলোতে দুর্নীতি ও ঘুষমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা জোরদার করে জনসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নারী ও অমুসলিমদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
যোগাযোগ খাত উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. মিজানুর রহমান বলেন, নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার সব কাঁচা রাস্তা পাকা করা হবে। রহনপুর থেকে ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু, রহনপুর-রাজশাহী শাটল ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভোলাহাট থেকে রহনপুর ও চাঁপাই সদর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করা হবে।পাশাপাশি রহনপুরে বাইপাস সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গোলচত্বর, রেললাইনের পাশে সড়ক নির্মাণ এবং রহনপুর-শান্তাহার রেললাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা খাতের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন, বিভিন্ন ধরনের মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়ন, বিদেশগমনেচ্ছুদের জন্য ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নার্সিং কলেজ স্থাপন এবং নারী ও বয়স্কদের জন্য কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে বলেন, ভোলাহাটকে পৌরসভায় উন্নীত করা হবে। রহনপুরে রেলবন্দর স্থাপন, আধুনিক নগরায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, হাট-বাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
চিকিৎসা খাতকে আধুনিক করার অঙ্গীকার নিয়ে ড. মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, প্রশিক্ষিত জনবল বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মানোন্নয়ন করা হবে।
যুবকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত বেকারদের দক্ষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। রেশম শিল্পের উন্নয়ন, আইসিটি প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্সের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান করা হবে।
নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার তুলে তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্মজীবী নারীদের জন্য কর্মবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে। বাজার ও জনবহুল এলাকায় নারীবান্ধব স্যানিটেশন ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন, নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যৌতুক ও পারিবারিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
কৃষকদের সকল সমস্যা চিহ্নিত করে তা প্রতিকারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আম, বরই ও পেয়ারা সংরক্ষণ ও রপ্তানির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সার সংকট নিরসন এবং মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি ব্যবহার করে বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসঙ্গে ড. মিজানুর রহমান বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, সাঁওতালসহ সব অমুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্ম পালনের পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখা হবে এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা হবে।
ক্রীড়া ও বিনোদন খাতে তিন উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ, খেলার মাঠে ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহ, রামদাস বিলকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, শিশু পার্ক নির্মাণ, সাংস্কৃতিক চর্চার পৃষ্ঠপোষকতা এবং ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণের পরিকল্পনার কথাও তিনি ইশতেহারে তুলে ধরেন।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।