সত্তার অনন্ত দীপ্তি
— ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল হক জহির
হে খোদা!
আমি তোমার এক পাপী বান্দা—
গুনাহের পাহাড় বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি
তোমার দরজার নীরব প্রহরে,
দুই হাত বাড়িয়ে ডাকি—
ফিরে আসার অধিকার কি এখনো আছে আমার?
সারাটি জীবন ডুবে ছিলাম ভুলের অন্ধকারে,
রাত্রির পর রাত্রি কেটেছে আত্মভুলের গভীর গহ্বরে;
তবু কোনো এক অদৃশ্য মুহূর্তে
অন্তরের নিভু প্রদীপে জ্বলে উঠেছে
তোমারই পবিত্র আলোর প্রথম শিখা—
যা অন্ধকারকে শুধু ভাঙে না,
আমাকে চিনিয়ে দেয় আমার হারানো পথ।
জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে
অগণিত নিদর্শনের ভিড়ে থেকেও
আমি কৃতজ্ঞতার ভাষা ভুলে গিয়েছিলাম—
তবু তুমি থামাওনি দান,
থামাওনি রহমতের প্রবাহ।
আমার প্রতিটি শ্বাসে তুমি রেখেছ রিজিক,
প্রতিটি প্রভাতে তুমি ছড়িয়েছ অদৃশ্য করুণা;
হে রহমান, হে করুণাময়, হে ক্ষমাশীল—
তোমার নীরব দয়াই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
এখন আমি চাই—
আমার জীবন তোমার রঙে রঞ্জিত হোক,
তোমার নূরের ছোঁয়ায় ধুয়ে যাক অন্তরের সব দাগ;
কারণ তোমার রঙের চেয়ে পবিত্র,
তোমার আলোর চেয়ে উজ্জ্বল আর কিছু নেই।
আমি আর নামের জন্য বাঁচতে চাই না—
আমি হতে চাই শুধু তোমারই,
নিঃশব্দ, নিষ্কলুষ এক বান্দা;
যার প্রতিটি নিঃশ্বাসে থাকবে
তোমার নৈকট্যের আকাঙ্ক্ষা।
আজ আমার অন্তর জেগে উঠেছে-
নিভে যাওয়া ছাইয়ের নিচে লুকানো আগুনের মতো;
আমি ভেঙে ফেলেছি পরাজয়ের মিথ্যা বিশ্বাস,
আমি দাঁড়িয়েছি নিজের বিপরীতে-
আমি জাগ্রত, আমি বিদ্রোহী।
এই বিদ্রোহ কারো বিরুদ্ধে নয়—
এটা আমার নিজের অন্ধকারের বিরুদ্ধে,
আমার ভেতরের পতনের বিরুদ্ধে।
আমি আর ভিক্ষুক নই—
আমি এক পথিক, এক সৈনিক;
অন্তরের অন্ধকার ভেঙে
আমি আলোর বীজ ছড়িয়ে দেব পৃথিবীর পথে,
যেখানে হতাশা আছে—সেখানে জাগবে আশা।
আমার ভুলগুলো আর শৃঙ্খল নয়-
ওগুলোই আজ আমার শিক্ষা,
আমার পতনগুলো আর লজ্জা নয়—
ওগুলোই আমার উঠে দাঁড়ানোর সোপান।
প্রতিটি নিশ্বাসে জন্ম নিচ্ছে নতুন আমি—
একটি সত্তা, যা আলো খোঁজে,
আলোয় বাঁচে।
আমি ঘোষণা করি—
আমি আর অন্ধকারে হারাব না;
আমি আমার সত্তার জাগরণ,
আমি তোমার নূরের এক বিনম্র সৈনিক—
আমি থামব না, কখনো না।
হে রব!
আমার অন্তরকে দৃঢ় রাখো,
আমার আত্মাকে পবিত্র করো তোমার নূরের স্পর্শে;
আমার জীবনকে এমন আলো দাও—
যা সময়ের সীমানা পেরিয়ে থাকে,
অন্ধকারকে জয় করে, নীরবে দীপ্ত হয়।
আমাকে বাঁচিয়ে রাখো—
আজও, সবসময়, চিরকাল।