লাইলাতুল কদর — আসমানের মহিমান্বিত ঘোষণা
— ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল হক জহির
রমযানের শেষ প্রহরে নেমে আসে নীরবতা,
ধরণী যেন থমকে দাঁড়ায় এক রহস্যময় প্রতীক্ষায়।
আসমানের অদৃশ্য দুয়ার খুলে যায় ধীরে—
রহমতের আলো ঝরে পড়ে পৃথিবীর বুকজুড়ে।
এ সেই রাত্রি—
যার কথা ঘোষণা করেছেন মহান প্রতিপালক,
যে রাত্রির বুকে নেমেছিল কুরআনের প্রথম আলো,
মানবতার মুক্তির অনন্ত দিশার পথচিহ্ন হয়ে।
হাজার মাসের ইবাদতও
এই এক রাতের মহিমায় ম্লান হয়ে যায়,
একটি সিজদা, একটি অশ্রুবিন্দু
অগণিত বছরের সাধনাকে ছাড়িয়ে যায়।
নামে ফেরেশতার অসীম মিছিল,
নামে রূহ প্রভুর নির্দেশ বুকে নিয়ে,
আকাশ ও জমিন ভরে ওঠে শান্তির সুধায়—
যেন করুণা ঝরে পড়ে নীরব অশ্রু হয়ে।
মুমিন তখন নিভৃত রাতে দাঁড়ায়,
কাঁপা কণ্ঠে বলে—
হে আমার দয়াময় রব!
তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসো,
আমার গুনাহগুলো তোমার রহমতের সাগরে ডুবিয়ে দাও।
সিজদায় নত হয় কপাল,
চোখ ভিজে ওঠে অনুতাপের অশ্রুতে,
অন্ধকার রাত্রির বুক ভেদ করে
দোয়া উড়ে যায় আরশের সিংহাসনে।
তাই নবীর আহ্বান আজও ধ্বনিত—
খুঁজে নাও তাকে রমযানের শেষ দশ রাতে,
নিভৃত বিজোড় প্রহরের গভীরতায়
লুকিয়ে আছে সেই রহমতের মহামুহূর্ত।
২১, ২৩, ২৫, ২৭ কিংবা ২৯—
কোন রাতেই নেমে আসতে পারে সেই মহিমা,
তাই মুমিন জাগে প্রতিটি রাত
ক্ষমা ও মুক্তির অশেষ প্রত্যাশায়।
সে জাগায় তার পরিবার,
জ্বালায় কুরআনের আলো ঘরের ভেতর,
কারণ নবীর পথ ছিল এটাই—
রাত্রিকে সাজানো ইবাদতের মহিমায়।
হে লাইলাতুল কদর!
তুমি রহমতের আকাশদ্বার,
যে তোমায় খুঁজে পায় অন্তরের আলোয়—
তার জীবনে জেগে ওঠে জান্নাতের অপার সম্ভার।
ফজরের আলো যখন ধীরে ফুটে ওঠে,
রাত্রি রেখে যায় শান্তির নিঃশ্বাস—
যেন আল্লাহর করুণা লিখে দেয়
মানবতার বুকে নতুন আশার ইতিহাস।
লেখক: ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও কবি
কনসালট্যান্ট: এক্স এসিডিআই.ভোকা-ইউএসএইড, এসএমই ফাউন্ডেসন্স, টিজিএল ইন ভ্যালু এডেড ডেইরি প্রোডাক্টস।