ভেঙে দাও বিভেদের প্রাচীর
— ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল হক জহির
আমি মানবতার বিদ্রোহী কণ্ঠ!
আমি অন্যায়ের বুকে বজ্রাঘাত!
আমি সেই আগুন—
যে নীরবে জ্বলে উঠে
জালিমের প্রাসাদের দেয়ালে!
ভেঙে দাও! ভেঙে দাও!
স্বজনপ্রীতির পচা দুর্গ ভেঙে দাও!
দলপ্রীতির বিষমুকুট
নিক্ষেপ কর ইতিহাসের অতল খাদে!
সিন্ডিকেটের কালো হাত—চূর্ণ করে দাও!
গোষ্টীর অহংকারের অন্ধ সাম্রাজ্য
আজ ভেঙে যাক ঝড়ের তাণ্ডবে—
মানুষের পৃথিবী
মানুষের কাছেই ফিরে আসুক!
শুনে রাখো—
হে ক্ষমতার উন্মত্ত অধিকারীরা,
মানুষের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে
যারা তোলে জুলুমের মিনার,
তাদের সিংহাসন
সময়ই একদিন ভেঙে দেবে!
আজ দিগন্তে দিগন্তে আগুন!
কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশের নীল—
মানবতার কান্না
ভাঙা খেলনার পাশে নিশ্চুপ পড়ে থাকে,
শিশুর স্তব্ধ চোখে জমে থাকে প্রশ্ন;
মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ
বিদীর্ণ করে পৃথিবীর বিবেক!
বিশ্বমানচিত্র জুড়ে অস্থিরতার আগুন—
শক্তির দ্বন্দ্বে জ্বলে ওঠে নতুন প্রান্তর।
এক প্রান্তে আঘাত নামে বিস্ফোরণের মতো,
অন্য প্রান্তে জেগে ওঠে প্রতিশোধের ছায়া।
গালফের আকাশে ঝুলে থাকে অনিশ্চয়তা-
তেল হয়ে ওঠে আগুনের মূল্য,
গ্যাস ছুঁয়ে ফেলে অজানা উচ্চতা;
মানুষের জীবনে নামে অদৃশ্য সংকট।
ক্ষেতের সবুজ ম্লান হয়ে যায় ধীরে,
দুর্ভিক্ষের ছায়া এগিয়ে আসে নীরবে;
ক্ষমতার প্রাসাদও কেঁপে ওঠে তখন—
যখন মানুষের দীর্ঘশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে।
তবু—
আমরা নত হবো না!
আমরা থামবো না!
আমরা মানবতার পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ!
যেখানে কান্না,
সেখানেই উঠবে আমাদের বজ্রকণ্ঠ!
যেখানে অন্যায়,
সেখানেই জ্বলে উঠবে প্রতিরোধের আগুন!
জালিমের সিংহাসন ভেঙে পড়ে—
হয়তো ধীরে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে;
কারণ ইতিহাসের শেষ সত্য
মানুষের পক্ষেই লেখা হয়।
আমাদের পতাকা—মানবতা!
আমাদের শপথ—ন্যায়!
অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই
আমাদের অটল অঙ্গীকার!
এসো—
ভেঙে ফেলি বিভেদের প্রাচীর,
ঐক্যের পথ গড়ে তুলি।
দেশের কল্যাণে, মানুষের তরে
এক পতাকার নিচে দাঁড়াই সবাই।
উঠুক বজ্রনিনাদ—
মানুষের জয় হোক!
মানবতার জয় হোক!
অন্যায়ের অন্ধকার ভেঙে
ন্যায়ের আলো উদিত হোক!
লেখক: ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও কবি
কনসালট্যান্ট: এক্স এসিডিআই.ভোকা-ইউএসএইড, এসএমই ফাউন্ডেসন্স, টিজিএল ইন ভ্যালু এডেড ডেইরি প্রোডাক্টস।