গত দেড় দশক ধরে দেশে ভোটাধিকার কার্যত বন্ধ ছিল, কারণ একজন হাসিনা কখনোই চাননি বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে ভোট হোক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ। তিনি বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে ইউজিসি ও রাবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণভোট-২০২৬’ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলী রিয়াজ বলেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও পরিবর্তনের স্পষ্ট আকাঙ্ক্ষা দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, উত্তর অঞ্চলের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী যদি আগামী ১০ দিনে পাঁচজন করে মানুষের সঙ্গে গণভোট নিয়ে কথা বলেন, তাহলে অন্তত ৫ লাখ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছানো সম্ভব। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সামান্য উদ্যোগ নিলেই আরও ৫ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানো যাবে।
গণভোটের প্রচারণা দেরিতে শুরু হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৩ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়। তবে প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে উদ্যোগ নিলে দেশে ব্যাপক সাড়া তৈরি করা সম্ভব। দেশ পরিবর্তন করতে চাইলে এই দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আলী রিয়াজ বলেন, গণভোটকে শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না। যারা শহিদ হয়েছেন, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন- প্রায় ১৪০০ মানুষের আত্মত্যাগের কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। গণভোটের বিজয় কোনো সরকারের বিজয় নয়, এটি এই দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের ভোট।
তিনি আরও বলেন, যারা জুলাই বিপ্লবে সরাসরি অবদান রাখতে পারেননি, তাদের সামনে এখন সুযোগ এসেছে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখার। গণভোটে কোনো প্রতীক নেই, গণভোটের একমাত্র মার্কা হলো ‘হ্যাঁ’।
মতবিনিময় সভার সভাপতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, বিগত ১৬ বছর ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। গণভোটের সুযোগ না থাকলে হয়তো ভোট দিতে যাওয়ার আগ্রহও তৈরি হতো না। এটি রক্তের ঋণ, আমি অবশ্যই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেবো।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহিদদের স্মরণ করে আমাদের করণীয় কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো গণভোটে হ্যাঁ বলা। গণভোটের কোনো দৃশ্যমান মার্কা নেই, কিন্তু আমার মনের গভীরে একটি মার্কা আছে-লাল রঙের, যা আমাদের সন্তানদের রক্তের চিহ্ন। হ্যাঁ ভোট মানেই সেই রক্তের ঋণ শোধ করা।
উপাচার্য আরও বলেন, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে মানুষের চিন্তায়। লাগামহীন ক্ষমতার চর্চা বাংলাদেশে আর চলতে দেওয়া যাবে না, এই বিষয়টি আমাদের মগজে গেঁথে নিতে হবে। ১২ তারিখের ভোটকে ঘিরে কিছু মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, যারা পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরতে চায়। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। আগের পথ ধরে এই রাষ্ট্র আর চলবে না।
তিনি বলেন, তরুণ সমাজ এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভয় ভেঙে গেছে। তারা এখন আর কোনো কিছুকেই ভয় পায় না।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন আহত জুলাই যোদ্ধা, তাদের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও উপাচার্যরা। সভায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ উত্তরবঙ্গের প্রায় ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ডিন এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।